বন্ধু তুহিনের কবিতা

জানোয়ার, ঘৃণা করি

ঘৃণা করো— আমি চাই তুমি ভালোবাসো না,
ভালোবাসা আজ বিষ, ধূপের কিনারে কয়লা, পোড়া গন্ধ।
ঘৃণায় জ্বলো, ছাই হও, ছড়াও চন্দ্রহার ধোঁয়া,
চামড়ার নিচে রক্তে মিশুক দহন, উদাস  আনন্দ।

ঘৃণা লেপো শরীরে, লোমকূপে, শিরা-উপশিরায়,
জঙ্ঘার কম্পনে জ্বলে উঠুক বিদ্যুৎ-স্পৃহা।
তোমার শরীর হোক আগ্নেয় পর্বত—
ঘৃণা হোক তার লাভা, উষ্ণ, উন্মাদ, নির্দয়।

ভোরের শহর তলিয়ে যাক সূর্যের লাল চায়ে,
দীর্ঘশ্বাসে মিশে যাক বিষের স্রোত।
প্রেমকে অভিশাপ দাও শিমুল তুলোর বালিশে   
তার সাদা  ভাষা ছিঁড়ে ফেলো দাঁতে দাঁত চেপে।

বেসামরিক রাত্রিবাসে, ডিনার টেবিলের নীলে,
ঘৃণা বসুক আগুন্তুকের আসনে, বিলুপ্ত ভাষন
প্রণয়ের লাল ওয়াইন ঢেলে দাও নর্দমায়।

পোশাকের আড়ালে সুতা ওঠা বোতামে
চোখ রেখো, ভ্রূ কুঁচকে বলো—
“জানোয়ার, ঘৃণা করি!”
তারপর নিঃশ্বাসে ছুড়ে দাও বিষ,
ফুঁড়ে দাও বুকের পাজর;  তুমুল আর্তনাদ
বাতাসে ছড়াক বর্গির গন্ধ শৈল্পিক শিল্প।

হঠাৎ কোনো একলা ঘরে চড়ইদের চেচামেচি,
ব্যালকনির ভাঙা টবে ফাঙ্গাসে নয়নতারা,
ঝিমিয়ে পড়ে সবুজ পাতা, হলুদ হয়ে ঝরে যায়—
তখন একটু থেমে ভাবো,
ঘৃণা করো মনখারাপের চুক্তিতে 

ধুলো পড়া, কালচে হওয়া পরে থাকা বইয়ের পাতায়,
চ্যাপ্টে যাওয়া সময়ের নিচে চাপা পড়ে শুকনো গোলাপ,
মুছে যায় শব্দ, কেটে নেয় কেউ একেকটা লাইন—
সেই দিকে তাকিয়ে থেকো,
আর একবার বলো—
জানোয়ার, ঘৃণা করি।”

 ৭ই কার্তিক, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ